সিলেটে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারী যাত্রীকে কৌশলে অপহরণ ও গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঢাকা মহানগরের যাত্রাবাড়ী এলাকার ধোলাইপাড় থেকে অভিযুক্ত সাইদুর রহমানকে (৩০) আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সাইদুর রহমান সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার হায়াতপুরগাঁও গ্রামের হাসিব আলীর ছেলে।
মামলার বিবরণ ও এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী সিলেট সদর থানার পশ্চিম চৌকিদেখী এলাকার বাসিন্দা। গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক আটটার দিকে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ছাতক যাওয়ার উদ্দেশ্যে নগরীর চণ্ডীপুল এলাকা থেকে সাইদুরের অটোরিকশায় ওঠেন। যাত্রা শুরুর পর চালক সাইদুর পথিমধ্যে একটি স্থানীয় বাজারে গাড়ি থামিয়ে কিছু গৃহস্থালি কেনাকাটা করেন। কেনা মালামাল নিজ বাড়িতে রেখে আসার অযুহাতে তিনি কৌশলে অটোরিকশাটি বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর এলাকার একটি নির্জন বাড়ির দিকে নিয়ে যান।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে ওত পেতে থাকা সাইদুরের সহযোগীরা এসে অটোরিকশার গতি রোধ করে। এরপর তারা ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক একটি ফাঁকা ঘরের ভেতর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে অবস্থানরত একাধিক ব্যক্তি তাকে পালাক্রমে নির্যাতন ও গণধর্ষণ করে। পাশবিক নির্যাতন শেষে আসামিরা ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তাকে নির্জন স্থানে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি গণধর্ষণ ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছায়া তদন্ত ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। প্রাথমিক অপরাধ সংঘটনের পর প্রধান অভিযুক্ত সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার এড়াতে সিলেটের সীমান্ত এলাকা ছেড়ে ঢাকায় এসে আত্মগোপন করেন। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইদুর এই পাশবিক অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এসআরবি-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ মিডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন যে, আসামি সাইদুর রহমানকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জঘন্য এই অপরাধে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


