মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক বিশেষ অভিযানে ৪০০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাকির হোসেন সোহেল নামের ২৮ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে খবর আসে যে, সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংগড়া গ্রামে নিজের বসতঘরে বড় ধরনের সারের মতোই গোপনে মাদক কেনাবেচার প্রস্তুতি চলছে। খবর পাওয়া মাত্রই মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হুমায়ুন কবীর খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি আভিযানিক দল গঠন করা হয়। পরে উপপরিদর্শক মো. জামাল হোসেনের সরাসরি নেতৃত্বে ডিএনসির চৌকস টিমটি বাংগড়া গ্রামে ওই চিহ্নিত বাড়িতে অভিযানে যায়।
অভিযান পরিচালনাকারী দলটি বেলা আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বাংগড়া গ্রামে পৌঁছায় এবং সন্দেহভাজন বাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর ঘরের ভেতর প্রবেশ করে তল্লাশি চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন সোহেলের নিজ দখলে থাকা ঘরের বিশেষ স্থান থেকে সুকৌশলে লুকানো ৪০০ পিস গোলাপী রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করা হয় এবং আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেন সোহেল বাংগড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে বসবাস করছেন। অনুসন্ধানে ও স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, সোহেল কেবল একজন খুচরা বিক্রেতাই ছিলেন না, বরং বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েক গ্রামে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছিলেন। বেতিলা-মিতরা ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিয়ে আসা এসব মাদক স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের হাতে পৌঁছে দিতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থেকে এই ক্ষতিকর ইয়াবা বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ বহুদিনের। বহু অভিভাবক তাঁর এই অপকর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
অভিযান শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মাদকের মতো ভয়াবহ ব্যাধি থেকে সমাজ ও তরুণ সমাজকে বাঁচাতে মানিকগঞ্জ জেলাজুড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই ধরনের চিরুনি অভিযান ও বিশেষ মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মানুষ এই সফল অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।


