আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য টানা ষষ্ঠ দিনের মতো নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পর দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম কমার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন রেকর্ড। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ দিনে ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘটনাবলি জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসে প্রভাব ফেলেছে:
-
কূটনৈতিক আলোচনা: দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া আলোচনা এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আসন্ন ওয়াশিংটন সফর দুই পরাশক্তির সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
-
সৌদি আরবের সরবরাহ বৃদ্ধি: সৌদি আরব সম্প্রতি তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ পুনরায় চালু করার এবং লোহিত সাগর উপকূল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণে দাম আরও কমে এসেছে।
-
চীনের কৌশলগত নীতি: চীনের তেল আমদানি হ্রাস পাওয়া এবং দেশটির নিজস্ব কৌশলগত মজুত থেকে তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববাজারে চাহিদার চাপ অনেকটাই কমেছে।
ওয়াল স্ট্রিটে স্বস্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা নিরসন হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারের ওপর ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে, যেখানে প্রযুক্তিভিত্তিক নাসডাক ১০০ সূচক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেলের দরপতনের কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের অক্টোবর মাসে পুনরায় সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে। তবে কৌশলবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের বাজারে হিসাবনিকেশ
এক ব্যারেল তেলে মোট ১৫৯ লিটার অপরিশোধিত তেল থাকে। ৯৮.৪৩ ডলার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য এবং প্রতি ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার হিসাবে প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দর দাঁড়ায় প্রায় ৭৬ টাকা (৬২ সেন্ট)।
তবে এটি কেবল আন্তর্জাতিক বাজারের অপরিশোধিত তেলের দাম। বাংলাদেশে চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবহন, বিমা, বন্দর ও খালাস ফি, পরিশোধন, সংরক্ষণ, বণ্টন ব্যয় এবং সরকারি শুল্ক-কর যুক্ত হয়। উল্লেখ্য, দেশে বার্ষিক ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে অবশিষ্ট সিংহভাগ পরিশোধিত তেল চড়া দামে আমদানি করতে হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দরপতনের সরাসরি সুফল স্থানীয় বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে পড়ে না।


