হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের ঘুষসংক্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিওটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এরই মধ্যে ওই এএসআইকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রানীগাঁও বাজারের এক ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তের কাজে বাজার এলাকায় যান এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। সেখানে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ঘুষ নেওয়া নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন। ওই সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন।
পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়া লাগবে।’ একই ভিডিওতে তিনি পুলিশের দায়িত্ব ও ঘুষ নেওয়া নিয়ে আরও কিছু মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের ওই অংশ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
পুলিশের একজন সদস্যের কাছ থেকে এমন মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, আচরণ ও জনসাধারণের সঙ্গে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিডিওটির বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভিডিওতে থাকা বক্তব্যের বিষয়ে তার সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে এএসআই ইলিয়াস হোসেনকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা আচরণ জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট, ভিডিওর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগ যাচাই করে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


