চাঁদপুরে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার, পালিয়ে গেলেন সন্দেহভাজন মূলহোতা

চাঁদপুর সদর উপজেলার নরুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার ১২০টি ইয়াবা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার সকালে পরিচালিত বিশেষ এ অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা ফারহান রানাকে আটক করতে পারেনি অভিযানকারী দল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পৌরসভার কয়লাঘাট এলাকার বাসিন্দা ফারহান রানা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চাঁদপুরে নিয়ে আসতেন। পরে তার গাড়িচালক নূর হোসেনসহ কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব মাদক সরবরাহ করা হতো।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরুল্লাহপুর এলাকায় ইয়াবার একটি বড় চালান মজুত থাকার তথ্য পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরপর মঙ্গলবার সকালে একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে আবুল হাশেমের বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ফারহান রানা বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তল্লাশির সময় ফারহানের ব্যবহৃত কক্ষের একটি খাট এবং একটি মোটরসাইকেলের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার সন্ধান পান কর্মকর্তারা। পরে সেখান থেকে মোট ২২ হাজার ১২০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ফারহান রানা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ফলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পলাতক ফারহান রানা এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মাদকের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদপুরে আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে সেগুলো সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে এই চালানের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং মাদক পরিবহন ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়ায় কারা ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

একসঙ্গে ২২ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদক সরবরাহ চক্রের বিস্তৃতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এত বড় পরিমাণ মাদক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কীভাবে চাঁদপুরে আনা হয় এবং এর সম্ভাব্য গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। পলাতক ফারহান রানাকে গ্রেপ্তার করা গেলে এসব বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পলাতক সন্দেহভাজন মূলহোতা ও তার সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দ করা মোটরসাইকেলও মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।