রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৭৩টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএমপি জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন মিরপুর বিভাগের আওতাধীন এলাকায়—১১৪ জন। এরপর মতিঝিল বিভাগে ৭৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৯ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তরা বিভাগে ৪২ জন, গুলশান বিভাগে ২৯ জন এবং রমনা বিভাগে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ১০ জন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ জনে।
অভিযান চলাকালে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন এবং আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি ছুরি ও একটি স্টিলের কাটারও উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ২ হাজার ৪৮৪ পিস ইয়াবা এবং ২ কেজি ৩৬০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করেছে পুলিশ।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, তল্লাশি ও অপরাধবিরোধী অভিযান চালিয়ে থাকে ডিএমপি। বিশেষ করে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের মতো কার্যক্রমকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমে হবে।
ডিএমপির বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের চিত্র হলো—মিরপুরে ১১৪ জন, মতিঝিলে ৭৫, তেজগাঁওয়ে ৬০, ওয়ারীতে ৫৯, লালবাগে ৫৫, উত্তরা ৪২, গুলশানে ২৯, রমনায় ২১ এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১০ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।


