জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে আচমকা চলে যাওয়ার অপরাধে বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। পর্তুগালের অধিনায়কের বিরুদ্ধে গুরুত্বর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটির ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের ফুটবলীয় কর্মকাণ্ড থেকে তাঁকে দূরে থাকতে হচ্ছে।
শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফুটবল ফেডারেশন রোনালদোর ওপর নেমে আসা এই নিষেধাজ্ঞার খবর নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর তাঁর এমন আচরণে শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুত্ব খতিয়ে দেখতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিংস বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের তদন্ত কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে খেলোয়াড়কে সাময়িক বরখাস্ত রাখার ধারানুযায়ী তাঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। ১০ অক্টোবর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বিষয়ে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করবে না বলেও জানিয়েছে ফেডারেশন।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য কোপেনহেগেনে অবস্থান করছিল পর্তুগাল দল। দলগত বৈঠকের একপর্যায়ে পর্তুগালের প্রধান কোচ জর্জ জেসুস জানিয়ে দেন, ডেনমার্কের বিপক্ষে একাদশে থাকছেন না রোনালদো। এর আগে নরওয়ের বিরুদ্ধে পুরো ৯০ মিনিট তাঁকে ডাগআউটে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন কোচ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ না পাওয়ার আভাস পেয়ে ক্ষুব্ধ হন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। কোচের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের কোড অব ডিসিপ্লিনের ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী—কোনো ফুটবলার যদি উপযুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতিরেকে দলের ট্রেনিং, ম্যাচ বা কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাকে ন্যূনতম ১ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হতে পারে। একই সাথে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখিও হতে হয় অভিযুক্ত খেলোয়াড়কে। ফলে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত পর্তুগাল দলের অধিনায়কত্ব এবং রোনালদোর ক্যারিয়ারের বাকি অংশ কীভাবে প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


