নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মাকসুদা বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে রাসেল ও প্রতিবেশী শফিকুল নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ভাঙাড়ির মালামাল বিক্রির বকেয়া ১০ লাখ টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলা চালানো হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনগত রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মাহমুদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদা বেগম ওই এলাকার মৃত নাজির উদ্দিনের স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাঙাড়ির মালামাল সরবরাহের পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, এরপর হামলা
নিহতের ছেলে জজ মিয়া অভিযোগ করেন, মাহমুদনগর এলাকার তোরখ আলীর ছেলে সাদ্দামকে ভাঙাড়ির দুই গাড়ি মালামাল দেওয়া হয়েছিল। এসব মালামালের মূল্য বাবদ ১০ লাখ টাকা পাওনা ছিল তাঁদের। সোমবার ওই টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও সাদ্দাম নানা টালবাহানা করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
জজ মিয়ার ভাষ্য, পাওনা টাকা চাইতে গেলে সাদ্দামের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাদ্দামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর মা মাকসুদা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জজ মিয়া আরও বলেন, হামলাকারীদের হাত থেকে মাকে রক্ষা করতে তাঁর ভাই রাসেল ও প্রতিবেশী শফিকুল এগিয়ে আসেন। তখন তাঁদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরিবারের অভিযোগ, হামলায় একই এলাকার হাবিউল্লাহ মিয়ার তিন ছেলে সামাউন হাবিব, অলিদ ও খোকনসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জন জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আহত দুজন হাসপাতালে, মরদেহ উদ্ধার
হামলার পর আহত রাসেল ও শফিকুলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাকসুদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তদন্তে গুরুত্ব পাবে হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তকরণ
পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রাণহানির এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এখন গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
আইন অনুযায়ী, কোনো আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির জন্য আইনি পথ অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিরোধের জেরে সহিংসতা ঘটলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এ ঘটনায় একজন প্রবীণ নারী প্রাণ হারিয়েছেন, আর দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণ বিবেচনা করা জরুরি। মামলা দায়ের, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


