শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বলের দখল নিয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের চুল টেনে ধরার ঘটনায় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ভিনিসিয়ুসকে। লাল কার্ড দেখার পর তাঁর আচরণকে ‘আক্রমণাত্মক মনোভাব’ হিসেবে বিবেচনা করে আরও দুই ম্যাচের শাস্তি যোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তানদের ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ভিনিসিয়ুস। আন্তর্জাতিক বিরতির পর লা লিগার ১৩তম রাউন্ডে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাঁর মাঠে ফেরার কথা রয়েছে। ম্যাচটি ২০ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে এক মাসেরও বেশি সময় লা লিগার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দেখা যাবে না রিয়ালের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে।
কী ঘটেছিল ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে?
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি। নাথানিয়েল সালিবার চুল টেনে ধরেন ভিনিসিয়ুস। ঘটনাটি ঘটে এমন একটি পাল্টা আক্রমণের সূচনায়, যা শেষ পর্যন্ত গোলে রূপ নিয়েছিল। শুরুতে রেফারির নজর এড়িয়ে গেলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
রেফারি দিয়াজ দে মেরা এসকুদেরোস ভিডিও রিপ্লে পর্যালোচনা করে ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। একই সঙ্গে বাতিল হয়ে যায় গোলটিও। মাঠে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।
শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে রেফারির প্রতিবেদনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, চুল টেনে ধরার সময় বলের দখল নিয়ে কোনো লড়াই চলছিল না। ফুটবলের শৃঙ্খলাবিধিতে বলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় সংঘটিত অপরাধ এবং বলের সঙ্গে সম্পর্কহীন আচরণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ কারণেই ভিনিসিয়ুসের শাস্তির মেয়াদ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লাল কার্ড দেখার পর তাঁর আচরণ নিয়েও আপত্তি জানায় শৃঙ্খলা কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক এবং সতীর্থদের তাঁকে আটকাতে হয়েছিল। এই আচরণের জন্যই অতিরিক্ত দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আপিল করেও ছাড় পেল না রিয়াল মাদ্রিদ
ভিনিসিয়ুসের শাস্তির মেয়াদ নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির ধারণা ছিল, নিষেধাজ্ঞা তিন ম্যাচের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। দুই ম্যাচের শাস্তি হলে সেটিকে স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখত তারা। কিন্তু চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ক্লাবটির প্রত্যাশার চেয়েও কঠোর।
রিয়াল মাদ্রিদ মনে করছে, অপরাধের তুলনায় এই শাস্তি অতিরিক্ত কঠোর। ক্লাবটির মতে, রেফারিং এবং শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সামগ্রিক ব্যবস্থার অবস্থানও এই সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে।
আপিলের ক্ষেত্রে রিয়ালের অন্যতম ভরসা ছিল রেফারির প্রতিবেদনে ভিনিসিয়ুসের কথিত গালিগালাজের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ না থাকা। ক্লাবটি আশা করেছিল, প্রতিবাদের ঘটনাটি মূল্যায়নের সময় শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি বিবেচনায় নেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই যুক্তিতে শাস্তি কমানো সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের সময় লা লিগার এক কর্মকর্তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি লিগকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর তাঁর আচরণ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
এল ক্লাসিকোতে বড় ধাক্কা রিয়ালের
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয়। রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা দলটির আক্রমণকে কার্যকর করে তোলে। এমন একজন খেলোয়াড়কে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে না পাওয়া কোচিং স্টাফের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে সেভিয়া ও বার্সেলোনার পাশাপাশি রেসিং সান্তানদের এবং ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেও তাঁকে ছাড়াই পরিকল্পনা সাজাতে হবে রিয়ালকে। বিশেষ করে এল ক্লাসিকোর মতো উচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতি দলের আক্রমণাত্মক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আপাতত ভিনিসিয়ুসের সামনে রয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ। নিষেধাজ্ঞাটি লা লিগার প্রতিযোগিতার জন্য হওয়ায় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তাঁর খেলার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে সেই ম্যাচেই নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বিতর্কের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে একটি মুহূর্তের আচরণ রিয়াল মাদ্রিদ ও ভিনিসিয়ুসের জন্য বড় মূল্য বয়ে আনল। মাঠের বাইরের এই শাস্তি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ম্যাচসংখ্যায় প্রভাব ফেলছে না, বরং মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দলের পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলেছে।



