আর্জেন্টিনার ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চুরির খবর জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকার কাছাকাছি বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি মেসির স্বাক্ষর করা জার্সিটি ফ্রেমসহ নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। অন্য একটি ভিডিওতে তাঁর স্বাক্ষর করা অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও দেখা যায়।
মেসির বার্সেলোনায় খেলার সময়কার স্মৃতিবিজড়িত এই সামগ্রী দুটি ফুটবলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হওয়ার কথা। দীর্ঘদিন স্প্যানিশ ক্লাবটিতে খেলার সুবাদে মেসির সঙ্গে বার্সেলোনার ইতিহাসের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ক্লাবটির হয়ে তাঁর অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং ব্যক্তিগত অর্জনের কারণে সেই সময়ের জার্সি ও অন্যান্য স্মারকের চাহিদাও রয়েছে।
চুরি হওয়া স্মারকের মূল্য কত?
মেসির স্বাক্ষর করা জার্সি ও অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের সঠিক বাজারমূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ ধরনের স্মারকের দাম নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর। কোন ম্যাচে জার্সিটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি মেসির নিজের ব্যবহৃত সামগ্রী কি না, স্বাক্ষরের সত্যতা এবং স্মারকটির সংরক্ষণাবস্থা—সবকিছুই মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সংগ্রাহকদের আগ্রহ ও নিলামে প্রতিযোগিতার মাত্রাও দাম বাড়াতে পারে।
মেসির স্মারকের সম্ভাব্য মূল্য সম্পর্কে ধারণা পেতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের কথা উল্লেখ করা যায়। বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসেবে মেসির পরা ছয়টি জার্সি ২০২৩ সালে নিলামে তোলা হয়েছিল। জার্সিগুলো বিক্রি হয় মোট ৭.৮ মিলিয়ন ডলারে। প্রতিটি জার্সির দাম এক মিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। বিশ্বকাপজয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ম্যাচে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে জার্সিগুলোর প্রতি সংগ্রাহকদের আগ্রহ ছিল বিশেষভাবে বেশি।
তবে বিশ্বকাপের সেই জার্সিগুলোর সঙ্গে প্যারিস থেকে চুরি হওয়া সামগ্রী দুটির সরাসরি তুলনা করা যায় না। চুরি হওয়া জার্সিটি কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, কিংবা আর্মব্যান্ডটির সঙ্গে বিশেষ কোনো ম্যাচ বা অর্জনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তাই এগুলোর সম্ভাব্য মূল্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
বিক্ষোভ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত প্যারিস
এদিকে প্যারিসে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার এবং সংঘর্ষে ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা বিলাসবহুল পণ্যের বুটিক ও দামি সরঞ্জাম বিক্রির দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালান বলে জানা গেছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূল্যবান প্রদর্শনীসামগ্রী ও ব্যক্তিগত সংগ্রহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে বিখ্যাত ক্রীড়াবিদদের স্বাক্ষর করা জার্সি, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক সামগ্রী সহজে প্রতিস্থাপন করা যায় না। এগুলোর আর্থিক মূল্য ছাড়াও খেলাধুলার ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
মেসির স্বাক্ষর করা জার্সি ও আর্মব্যান্ড উদ্ধারের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। স্মারক দুটি উদ্ধার হলে সেগুলোর সত্যতা যাচাই এবং মালিকানা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


