নিহত রত্না দাস খাগালিয়া গ্রামের কুড়ের হাটির বাসিন্দা সুশীল দাসের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রত্না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন রোববার তাঁর স্বামী সুশীল দাস নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর থেকে তাঁকে খুঁজছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ভাসমান কিছু দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। কাছে গিয়ে তাঁরা এক নারীর মরদেহ দেখতে পান। তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল। পরে পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা সেটি রত্না দাসের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের চাচাতো দেবর বলরাম দাসের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ঘরে থাকা রশি ও পাথর দিয়ে রত্নার হাত-পা বেঁধে তাঁকে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে লুটপাট ও হত্যার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে রত্নার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং এর পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।


