সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিসিএএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ থেকে গুরুতর—বিভিন্ন মাত্রার আঘাত পাওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন। আহত সবাইকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার ধরন, এর পেছনে কারা জড়িত এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে কতটা প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
একই দিনে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার সময় আরও দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে এ ধরনের হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রভাব দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর বারবার পড়েছে। ইয়েমেনের হুতি বাহিনী এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কাও বিভিন্ন সময়ে দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এসব হামলার ঝুঁকিতে থাকায় দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। একই বিমানবন্দরে গত অক্টোবরের আরেকটি পৃথক হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মার্কিন কূটনীতিকদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ
পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে নিযুক্ত নিজেদের কূটনীতিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সম্ভাব্য হুতি হামলার আশঙ্কায় রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এ ধরনের সতর্কতা সাধারণত কূটনীতিক, তাঁদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়।
কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা এবং সায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার সময় প্রাণহানির ঘটনা একই দিনে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে বিমানবন্দরের হামলার সঙ্গে তেলক্ষেত্রের ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামগ্রিকভাবে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বেসামরিক নাগরিক, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং জ্বালানি খাতের ওপর তার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


