বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আব্দুল বারী (৫০)। তিনি সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষক। ওই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি কিংবা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার শিক্ষার্থীটি বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানায়। পরে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচতলা একটি ভবনে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসস্থান অবস্থিত। সেখানে হামলার সময় ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ভেতরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁদের একজন। তবে কী পরিমাণ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বাড়িতে ছিলেন না। তবে তাঁর স্ত্রী ও ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী।
এ সময় ভবনটিতে আবারও ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিরাও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাভার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল সেখানে পৌঁছায়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁদের থানায় নেওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল দায়িত্ব পালন করে।
শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা লুটপাটের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মর্যাদা রক্ষা করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে কাউকে শনাক্ত বা আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


