সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা। কয়েক দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৭ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চেসি ত্রিপুরার মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ ঘোষণা করেন। তবে মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ আশায় বাবা-মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় রাখা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম এইচ এম খুরশীদ আলম জানিয়েছিলেন, চেসির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকরা ওই রাতেই তার ভেন্টিলেশন খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘমারা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন চেসি ত্রিপুরা। পথে তাকে বহনকারী অটোরিকশার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে এবং শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
দুর্ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা চলতে থাকে।
তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকদের পরীক্ষায় উঠে আসে। এরপর তাকে চিকিৎসাগতভাবে মৃত ঘোষণা করা হলেও পরিবারের অনুরোধে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়।
শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর সেই ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়। রাত ১১টা ৭ মিনিটে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
১৯ অক্টোবরের সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে ২২ অক্টোবর রাতে মৃত্যুর আগপর্যন্ত চেসি ত্রিপুরাকে বাঁচাতে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হয়। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর—সব প্রচেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থীকে হারাল। ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত তার জীবনের সমাপ্তি ডেকে আনল।


