চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়ন এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের একটি স্থানীয় শাখায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ভবনটির জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চেয়ে শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক মাহমুদা আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাগাদীতে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংক কর্মীদের আবাসিক কক্ষে এই নাশকতা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা একটি জানালার কাচ ভেঙে বাইরে থেকে ভেতরে পেট্রোল ভর্তি প্লাস্টিকের বোতলজাতীয় জ্বলন্ত বস্তু নিক্ষেপ করে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন আবাসিক কক্ষের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে এবং আশপাশের আসবাবপত্রে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যাংকের নৈশকালীন নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী ও শাখা অফিস সহকারী নিত্য হাওলাদার জানান, রাতে হঠাৎ জানালা দিয়ে তীব্র ধোঁয়া ও আগুন ছড়াতে দেখে ভেতরে থাকা কর্মীরা দ্রুত প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সাহায্য চাওয়া হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অল্পের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বড় ধরনের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান।
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় ব্যাংকের আবাসিক কক্ষের দামি আসবাবপত্র, পরিধেয় জামাকাপড়সহ ভবনের ভেতরের কাঠামোর একটি বড় অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ডে অন্তত দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র ও আনুসঙ্গিক মালামাল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। তবে ব্যাংকের নিচতলায় থাকা ভল্ট এবং গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কতটা নিরাপদ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খয়রুল কবির সদর মডেল থানার উর্ধতন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অকুস্থল পরিদর্শন করেন। তারা পুড়ে যাওয়া স্থান পর্যবেক্ষণ করেন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার জোর প্রস্তুতি চলছে।


