গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক কেনার টাকা না পেয়ে বাবা আব্দুস সামাদকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার সাইটালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন আনোয়ার হোসেন। বাড়িতে ফেরার পর মাদক কেনার জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাবা আব্দুস সামাদ ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাবার এই চেষ্টায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আনোয়ার। একপর্যায়ে তিনি লাঠি দিয়ে আব্দুস সামাদের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে তাঁর বুকে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন আব্দুস সামাদ। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এ ঘটনায় সাইটালিয়া গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক কেনার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিবারের ভেতরে এমন সহিংসতার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ঘটনার সময় ঠিক কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের ফলাফল কিংবা অভিযুক্তের গ্রেপ্তার সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।


