রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগম ওই বাড়ির হোসেন মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রানু পরিবারের অন্য সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এরপর ধারালো বটি দিয়ে নিজের মা সেতারা বেগমকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
মাকে হত্যার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। হাতে বটি নিয়ে রানু বাড়ির এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এ সময় তিনি ঘরের দরজাগুলো ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখেন। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের লোকজনের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশকে ভেতরে প্রবেশ করতে বেগ পেতে হয়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালানোর পর বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে সেখান থেকে সেতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের পরিচয়, আঘাতের ধরন এবং চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগেও স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে রানুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি নিজের স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর তাঁকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
রানুর বড় বোন জানান, তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। মঙ্গলবার তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এ ঘটনা।
স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েকে দায়ী করছে পরিবার
পরিবারের দাবি, রানুর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে এ দাবির পক্ষে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে তাঁর মানসিক অবস্থার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কারও আচরণ বা মানসিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার কারণ কিংবা অপরাধের দায় নির্ধারণ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের বক্তব্য
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত রিনা আক্তার রানুকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার সময়কার পরিস্থিতি এবং আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে রানুর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেটিও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিজ বাড়িতে ৮০ বছর বয়সী এক নারীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন গুরুত্বপূর্ণ।


