রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বছরের প্রথম এল ক্লাসিকোতে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে রিয়াল মাদ্রিদকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে বারবার বাধার মুখে পড়ে কাতালানরা। অন্যদিকে, সুযোগের অপেক্ষায় থেকে পাল্টা আক্রমণে নিজেদের কার্যকারিতা দেখানোর চেষ্টা করে রিয়াল।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেই কৌশলেই সফল হয় সফরকারীরা। ৪১তম মিনিটে গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মাদ্রিদের দলটি। প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও গোলের হিসাবে পিছিয়ে পড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চাপ বাড়ে বার্সেলোনার ওপর।
বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় স্বাগতিকরা। রিয়ালের রক্ষণে চাপ তৈরি করে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় ফ্লিকের শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত ৬১তম মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফল পায় বার্সেলোনা। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার গোলে ১-১ সমতায় ফেরে কাতালানরা। গোলটি ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। দুই দলই এরপর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে।
সমতায় ফেরার পর বার্সেলোনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও রিয়াল মাদ্রিদও নিজেদের আক্রমণাত্মক অবস্থান ধরে রাখে। দুই দলের লড়াইয়ে রক্ষণ সামলানো এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ম্যাচের শেষ দিকে এসে সেই পরীক্ষায় এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
৮৭তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে রিয়ালকে আবারও এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। তাঁর এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মাদ্রিদের ক্লাবটির। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার জন্য চেষ্টা চালালেও আর গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা। ফলে নিজেদের মাঠেই পরাজয় মেনে নিতে হয় কাতালানদের।
এল ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমবাপ্পের জোড়া গোল রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যবধান গড়ে দেন। বিপরীতে, বার্সেলোনা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং একবার সমতায় ফেরার পরও শেষ পর্যন্ত রিয়ালের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ভাগে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
হারলেও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বার্সেলোনা
এল ক্লাসিকোয় হারের পরও লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ১০ ম্যাচে ৯ জয় ও ২৭ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে দলটি। অন্যদিকে, সমানসংখ্যক ম্যাচে ৮ জয় ও ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই দলের মাঝখানে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর সুযোগও কাজে লাগিয়েছে তারা। অন্যদিকে, মৌসুমের প্রথম লিগ পরাজয়ের ধাক্কা সামলে আবারও ধারাবাহিকতায় ফেরার চ্যালেঞ্জ থাকবে বার্সেলোনার সামনে।
লা লিগার শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও বার্সেলোনার জন্য এই হার একটি সতর্কবার্তা। দীর্ঘ মৌসুমে পয়েন্ট ধরে রাখতে হলে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং রক্ষণে মনোযোগ—দুই ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। রিয়াল মাদ্রিদের জন্যও এই জয় শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।


