
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা লেখেন তিনি। এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ভিডিও সাক্ষাৎকারে তাশরীফের বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি অসুস্থ অবস্থায় আর্থিক সহায়তা না পাওয়া এবং ছেলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর না পাওয়ার কথা জানান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ দাবি করেন, ছেলেকে হাফেজ ও মাওলানা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন কষ্ট করেছেন। ছেলের শৈশবে গুরুতর শারীরিক সমস্যার সময় চিকিৎসার ব্যয় জোগাড় করতেও তাঁকে হিমশিম খেতে হয়েছিল।
ছেলের লেখাপড়া ও চিকিৎসা নিয়ে বাবার বক্তব্য
ভিডিও সাক্ষাৎকারে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। তাঁর দাবি, সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তাশরীফের শৈশবের একটি অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, একসময় ছেলের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। ইমামতির মাধ্যমে পাওয়া সামান্য আয়ে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় অন্য মানুষের কাছ থেকেও টাকা সংগ্রহ করতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
হেদায়েতুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে নিজের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন এই ধর্মীয় ব্যক্তি।
তবে ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে তাশরীফের বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ইমামতির চাকরি ছাড়ার পর অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ
সাক্ষাৎকারে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ আরও দাবি করেন, ছেলের পরামর্শে তিনি মসজিদের ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিনিময়ে প্রতি মাসে তাঁকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ আর পাননি বলে অভিযোগ করেন।
বাবার দাবি, নিজের সীমিত আয়ের মধ্যেও তিনি ছেলের ভরণপোষণ, লেখাপড়া ও চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। অথচ নিজের অসুস্থতার সময় আর্থিক সহযোগিতা চেয়েও প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি।
এ বিষয়ে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তিনি অসুস্থ অবস্থায় ছেলের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তাশরীফ তখন জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে রাজি হননি।
সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে বড় করেছেন, অথচ নিজের প্রয়োজনের সময় ছেলের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
তবে বাবার এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে তাশরীফের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন।
আগের বিতর্কের মধ্যেই নতুন আলোচনা
এর আগে টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার ঘটনায় ওই শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। ওই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বাবার অভিযোগ সামনে এল।
বাবার সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর তাশরীফের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মন্তব্যের অর্থ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
পারিবারিক সম্পর্ক, অসুস্থ বাবার দায়িত্ব এবং আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে অভিযোগকারী বাবার বক্তব্যের পাশাপাশি তাশরীফের ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাবার অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে, তাশরীফের ফেসবুক স্ট্যাটাসে করা মন্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ করাও সম্ভব নয়। দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে এলেই বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।


