আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি তাদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) খসড়া বিবরণী পেশ করেছে। কিন্তু এই আইপিও নথিতে ক্লাউড (Claude) এআই মডেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, উপযুক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া এআই প্রযুক্তির সঠিক বিকাশ না হলে তা মানবজাতির জন্য বিপর্যয়কর এমনকি অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া এই আইপিও বিবরণীটি এখন একটি আইনগত দলিলে পরিণত হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের চালিত স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমের কারণে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা অপরাধের ক্ষেত্রে দায়ভার শেষ পর্যন্ত কার ওপর বা কীভাবে বর্তাবে, সে বিষয়ে এখনো তারা সুনির্দিষ্ট করে নিশ্চিত নয়। এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আর্থিক ও নিরাপত্তা খাতে একটি বড় আইনি ও বীমা সুরক্ষার জটিলতা তৈরি করেছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অপরাধ বা সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির ক্ষেত্রে কার আইনি দায়বদ্ধতা কতটুকু—সে বিষয়ে খোদ প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই যদি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে, তবে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। অ্যানথ্রপিকের প্রকাশ করা আইপিও বিবরণীতে মূল ঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে প্রধানত তিনটি বড় ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে:
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে বর্তমানে এআই প্রযুক্তি অনুসরণের গতি যতটা দ্রুত, তার সুরক্ষায় গঠিত নীতিমালা বা গভর্ন্যান্স কাঠামোর অগ্রগতি ততটা দ্রুত নয়। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের প্রধান প্রধান বাজারগুলো নিজ নিজ আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি বাড়াচ্ছে। যেমন—সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক কর্তৃপক্ষ (এমএএস) গত ৭ অক্টোবর ব্যাংক, বীমা ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ভারতের বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আইআরডিএআই) এআই গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে একটি কার্যকরী দল গঠন করেছে। একই ধারায় হংকং ও জাপানের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহ নিজস্ব পর্যবেক্ষণ নীতিমালা তৈরি করছে।
পলিসি বা চুক্তিপত্রে এআই সম্পর্কিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের বীমা বাজার এখন বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যে সময় প্রচলিত সাইবার বীমা পলিসিগুলো তৈরি করা হয়েছিল, সে সময় এআই এজেন্টের এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় হুমকি বা আইনি ঝুঁকির বিষয়টি অনুমিত ছিল না। ফলে বর্তমানে বিদ্যমান সাইবার বা প্রফেশনাল লাইবিলিটি বীমা পলিসিগুলো পরিবর্তন করে এআই সম্পর্কিত সুরক্ষার নির্দিষ্ট শর্ত যোগ করা বা সরাসরি এর দায় বাতিলের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর এই আইনগত নথি ও স্বীকারোক্তি মূলত এশিয়া-প্যাসিফিকের বীমা খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে আসা এবং এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে বিদ্যমান বীমা পলিসির ভাষা ও আইনি শর্তগুলো আধুনিক ঝুঁকি মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।


