অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনস। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে উঠবে দেশের জনপ্রিয় কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সুফিতান’ এবং দেশের প্রথম কাওয়ালি ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত ‘নাফস’। পাশাপাশি ‘এইচইউ সুফি ট্রুপ’ পরিবেশন করবে সুফি নৃত্য। সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে পুরো আয়োজনকে সুফি সংস্কৃতির আবহে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।
কাওয়ালি মূলত সুফি সাধনা, আধ্যাত্মিক প্রেম ও স্রষ্টার প্রতি নিবেদনের ভাব প্রকাশের একটি সংগীতধারা। দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই সংগীতের চর্চা হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে কাওয়ালি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিসর ছাড়িয়ে বিশ্বসংগীতের অঙ্গনেও জায়গা করে নিয়েছে। নুসরাত ফতেহ আলী খানের অসাধারণ কণ্ঠ, দীর্ঘ পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিকে আধুনিক সংগীতের সঙ্গে মেলানোর দক্ষতা এই ধারাকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
‘ইশক-এ-নুসরাত’ আয়োজনের অংশ হিসেবে থাকবে শিল্পীর সংগীতজীবন ও অবদান নিয়ে বিশেষ ফটো গ্যালারি এবং ট্রিবিউট এক্সিবিশন। এর মাধ্যমে দর্শকেরা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও সংগীতের দীর্ঘ যাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। অনুষ্ঠানস্থলও সাজানো হবে সুফি ভাবনায়, যাতে পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শকেরা এই সংস্কৃতির নান্দনিক আবহ অনুভব করতে পারেন।
ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাকিব হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইশক-এ-নুসরাত’ কেবল একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়; কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর সংগীতের চিরন্তন আবেদন উদ্যাপনের একটি উদ্যোগ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও কাওয়ালি ও সুফি সংগীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
অনুষ্ঠানের দিন ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় দর্শনার্থীদের জন্য অডিটরিয়ামের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। মূল পরিবেশনা শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায় এবং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগের উপযোগী পরিবেশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখার কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
সীমিত আসনের এই অনুষ্ঠানের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে ৯৯৯ টাকা থেকে। ফলে আগ্রহী দর্শকদের আসন ও টিকিটের প্রাপ্যতা সম্পর্কে আয়োজকদের কাছ থেকে তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণ করেন নুসরাত ফতেহ আলী খান। শক্তিশালী কণ্ঠ, দীর্ঘ শ্বাসে সুর ধরে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা এবং আবেগঘন পরিবেশনার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিকে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। চলচ্চিত্রের সংগীত ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগীত প্রকল্পেও তাঁর কাজ কাওয়ালির শ্রোতাপরিসর বিস্তৃত করেছে।
১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করলেও নুসরাত ফতেহ আলী খানের সংগীতের আবেদন এখনো অমলিন। তাঁর পরিবেশনায় আধ্যাত্মিক অনুভূতি, মানবিক আবেগ ও সংগীতের শক্তি এক অনন্য মাত্রা পেয়েছিল। ঢাকার ‘ইশক-এ-নুসরাত’ আয়োজন সেই সংগীতঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণ করার পাশাপাশি কাওয়ালিপ্রেমীদের একত্র হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।


