ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে থানা-পুলিশের এক মাদকবিরোধী অভিযানে আটক পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত সংক্ষিপ্ত বিচারে (সামারি ট্রায়াল) তাঁদের প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রানা প্রতাপ ঘোষ ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফ হাসান সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে ওই পাঁচজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের শারীরিক পরীক্ষা ও আধুনিক ডোপ টেস্ট করা হলে চিকিৎসকরা তাঁদের শরীরে নিয়মিত মাদক সেবনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পান। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের সামারি ট্রায়ালের আওতায় এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের পরিচয় ও দণ্ডাদেশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার ষাটবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল মন্ডলকে (৩৫) সবচেয়ে বেশি দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে অতিরিক্ত ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একই রায়ে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সম্রাট মির্জা (১৯) এবং ঈশ্বরবা গ্রামের সম্রাট বিশ্বাসকে (২০) ১০ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তাঁদের উভয়কে এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে তাঁদের অতিরিক্ত ১৪ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাহিন ইসলাম (২০) ও ইমন মির্জাকে (২৮) সাত মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাঁদের দুজনকে অতিরিক্ত সাত দিন করে সশ্রম কারাদণ্ডে থাকতে হবে।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর নির্দিষ্ট ধারা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে বিচারক এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন। ডোপ টেস্টের মতো আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা ব্যবহারের ফলে অপরাধীদের ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজনকেই প্রিজন ভ্যানে করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন যৌথ অভিযান ও তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


