মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আটক সাহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারেক আহমেদ নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে। একই গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে সাহেল মিয়া তার বাল্যবন্ধু। কয়েক দিন আগে জীবিকার তাগিদে তাঁরা দুজন লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে একটি ভবন নির্মাণের কাজে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন।
গত ২১ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তারেক। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করেন। বন্ধুবান্ধবের কাছেও তাঁর বিষয়ে জানতে চান তাঁরা। তবে কোথাও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে গত ২৫ অক্টোবর তারেকের বাবা মহব্বত উল্লা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে তারেক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর বন্ধু সাহেলের কথাবার্তা নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সাহেল বাড়িতে ফিরলে গ্রামবাসী তাঁকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর রাতে ঘুমন্ত তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন সাহেল। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বন্ধুর ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে নেওয়া। হত্যার পর ফোনটি নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। পরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দামের ফোনটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন সাহেল। এরপর মরদেহ ডোবায় লুকিয়ে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, সাহেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার একটি ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাহেল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মামলা দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় এবং আলামত যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


