পটিয়ায় শিশু অপহরণ-ধর্ষণ মামলা: এক বছর পর বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রায় এক বছর পর পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স (এসআরবি)। গ্রেপ্তার দুজন সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। তাঁদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের রামু উপজেলার মরিচ্চ্যা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এসআরবি-৭-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের অলির হাট মল্লিকপাড়া এলাকার আদিত্য মল্লিক (২১) ও তাঁর বাবা উত্তম মল্লিক (৪৫)। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার মরিচ্চ্যা বাজার এলাকায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।

এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম ও এসআরবি-১৫, কক্সবাজারের একটি যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পটিয়া থানায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আদিত্য মল্লিক ও তাঁর বাবা উত্তম মল্লিক ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর থেকেই তাঁরা আত্মগোপনে ছিলেন।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে শিশুটির বয়স বিবেচনায় ঘটনাটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা, শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান

এসআরবির সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম এবং এসআরবি-১৫, কক্সবাজারের সদস্যরা সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আদিত্য মল্লিক ও তাঁর বাবা উত্তম মল্লিককে রামুর মরিচ্চ্যা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিচার নিশ্চিতের গুরুত্ব

শিশু অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগের মতো সংবেদনশীল মামলায় অপরাধের দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ শিশুদের প্রতি নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো হিসেবে কার্যকর রয়েছে। অভিযোগের প্রকৃতি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে আদালত সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার করে থাকেন।

প্রায় এক বছর ধরে পলাতক থাকা দুই আসামির গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলাটির পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত আসবে। মামলার তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটন এবং শিশুটির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।