নাঈমের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ১৬৯ রানে থামল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে অল্প রানে অলআউট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও অফস্পিনার নাঈম হাসানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ভর করে ১৬৯ রান তুলেছে দলটি। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন নাঈম। তাঁর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

আগের দিন খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রান। ফলে দ্বিতীয় দিন সকালে দলের ব্যাটিং নিয়ে শঙ্কা ছিল যথেষ্ট। হাতে মাত্র চার উইকেট নিয়ে কত দূর এগোতে পারবে বাংলাদেশ, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নাঈমের দৃঢ়তায় সেই শঙ্কা কাটিয়ে ১৬৯ রানের সংগ্রহ গড়ে দল।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জাকের আলী। আগের দিন মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হকের বদলি হিসেবে খেলতে নামা জাকের জোমেল ওয়ারিকানের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন। ৩৪ বলে ২২ রান করেন তিনি। তাঁর বিদায়ে বাংলাদেশের শেষ দিকের ব্যাটিং আরও চাপে পড়ে।

এরপর ওয়ারিকানের শিকার হন হাসান মাহমুদ। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৩১ বলে ৮ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ একইভাবে তাইজুল ইসলামকে ফেরান। তাইজুলের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ৮ রান।

একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছিল, অন্যদিকে নাঈম চেষ্টা করছিলেন ইনিংসের শেষ ভরসা হয়ে টিকে থাকতে। সতীর্থদের নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, পরিস্থিতি অনুযায়ী রান তোলার চেষ্টা এবং উইকেটে পড়ে থাকার দৃঢ়তা।

নাঈমের ইনিংসে অবশ্য ভাগ্যের সহায়তাও ছিল। ব্যক্তিগত ২১ ও ২৯ রানের মাথায় দুইবার তাঁর ক্যাচ ফেলে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডাররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন সুযোগ হাতছাড়া হলে ব্যাটারকে সাধারণত বড় মূল্য দিতে হয়। কিন্তু নাঈম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস দীর্ঘ করেন। একপর্যায়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পূর্ণ করেন নিজের প্রথম অর্ধশতক।

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম ফিফটি পাওয়া নাঈম শেষ পর্যন্ত ৫০ রানের মাইলফলক পেরিয়ে দলের সংগ্রহকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর এই ইনিংস কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলের কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েরও উদাহরণ হয়ে থাকবে।

শেষ পর্যন্ত রোস্টন চেজের বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে নাঈমের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও শেষ হয় ১৬৯ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ। তিনি ১৫.৪ ওভার বল করে ৩৬ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট শিকার করেন। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব। অন্যদিকে জোমেল ওয়ারিকানও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন।

বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতার অভাব থাকলেও নাঈমের লড়াকু ব্যাটিং দলের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে শেষের দিকে ব্যাটারদের দ্রুত বিদায়ের পর তাঁর এই পারফরম্যান্স ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন বোলারদের ওপর নির্ভর করছে, এই সংগ্রহ কাজে লাগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কতটা চাপে রাখা সম্ভব হয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।