রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে আফিয়া আক্তার (৬৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ৩০ বছর বয়সী ছেলে তাহসিন আরিফকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে আফিয়া আক্তারকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তাঁর মুখ ও গলায় গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটে। ঘটনার সময় বাসায় থাকা গৃহকর্মী এবং আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ছেলে তাহসিন আরিফের সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে পেরেছে পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে বাসার গৃহকর্মী ও আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে তাহসিন তাঁর মাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এতে তাঁর মুখ ও গলা দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
ঘটনার পর পুলিশ নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ ও আঘাতের ধরন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে তাহসিন আরিফকে আটক করেছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পারিবারিক বিরোধ, মানসিক অবস্থা কিংবা অন্য কোনো বিষয় এ ঘটনার পেছনে কাজ করেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিজ বাসায় একজন বয়স্ক নারী কী পরিস্থিতিতে প্রাণ হারালেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি এবং প্রয়োজনীয় আলামত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, আটক তাহসিন আরিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন।


