ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের সিকার শহরে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের মুঠোফোনে প্রিপেইড রিচার্জ করার জন্য ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে গিয়েই অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সামির। তিনি শহরের সালাসার বাসস্ট্যান্ডের কাছে নির্মল মেডিকেল পয়েন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
ব্যাংকিং অ্যাপে পিন নম্বর দিয়ে প্রবেশ করার পর প্রথমে তিনি দেখতে পান, তার হিসাবের ব্যালেন্স শূন্য। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি হিসাবের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করেন। তখনই জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার কোটি রুপিরও বেশি অর্থের ওপর উত্তোলনসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পড়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সামির। কারণ, তার ব্যাংক হিসাবে আগে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি জমা ছিল। সেটিও তিনি প্রয়োজনের সময় তুলতে পারছিলেন না। একদিকে কোটি কোটি রুপির অঙ্কে নিষেধাজ্ঞার তথ্য, অন্যদিকে নিজের সামান্য সঞ্চয় ব্যবহারের সুযোগ না পাওয়া—সব মিলিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।
পরে বিষয়টি নিজের নিয়োগকর্তা ধীরাজ শর্মাকে জানান সামির। ঘটনা শুনে তিনিও বিস্মিত হন। এরপর দুজন মিলে সিকারের সাইবার পুলিশ স্টেশনে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করে জানায়, কারিগরি ত্রুটির কারণে সামিরের ব্যাংক হিসাবে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হিসাবের তথ্য প্রদর্শন ও লেনদেনসংক্রান্ত ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে বিপুল অঙ্কের অর্থের ওপর নিষেধাজ্ঞার তথ্য দেখা যাচ্ছিল।
পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কারিগরি সমস্যাটি সংশোধন করে। এর পর সামিরের ব্যাংক হিসাবের প্রকৃত ব্যালেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং লেনদেনের স্বাভাবিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা হয়। ফলে নিজের জমানো অর্থ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তারও অবসান ঘটে।
ঘটনা সম্পর্কে সামির খান বলেন, তার ব্যাংক হিসাবে আগে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি জমা ছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থের ওপর উত্তোলন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিজের সঞ্চয়ের টাকাও তুলতে না পেরে তিনি পুলিশের কাছে যান এবং ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধান করেছে।
সামিরের নিয়োগকর্তা ধীরাজ শর্মা জানান, গত জানুয়ারি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সামির। তার মাসিক বেতন ১০ হাজার রুপি। এমন একজন কর্মীর ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থের ওপর নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান।
ধীরাজ বলেন, সামির যখন তাকে বিষয়টি জানান, তখন তিনি প্রথমে বিস্মিত হন। তার ভাষায়, জীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি তিনি।
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের লেনদেন ও হিসাব ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের কী ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে, সেটিও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাবে ভুল তথ্য প্রদর্শিত হলে গ্রাহকের মধ্যে আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
সামিরের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়ে ২২ বছর বয়সী এই যুবককে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা তার কাছে নিঃসন্দেহে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। মাসে ১০ হাজার রুপি বেতনের চাকরি করা সামিরের ব্যাংক হিসাবে একদিন ১০ হাজার কোটি রুপির অঙ্ক দেখা গেলেও সেই অর্থের মালিক হওয়ার কোনো সুযোগ অবশ্য তার ছিল না।


