মানিকগঞ্জের শিবালয়ে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. হেলাল উদ্দিন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে শিবালয় থানা-পুলিশ। শনিবার রাতে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার বিআইডব্লিউটিএর টোলঘরের কাছে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে শিবালয় থানা-পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটের কাছাকাছি বিআইডব্লিউটিএর টোলঘরের দক্ষিণ পাশে ধুতরাবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। এলাকাটি ফেরি পারাপারের প্রধান সড়ক সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনের যাতায়াত থাকে। এ সময় ঘাটের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করা হেলাল উদ্দিন নামের ওই যুবককে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে তাঁর কথাবার্তা ও চলাফেরায় অসঙ্গতি ধরা পড়ায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কড়া তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে ২০টি নীল রঙের বিশেষ পলিব্যাগে সুকৌশলে মোড়ানো অবস্থায় মোট চার হাজার পিস মাদকজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. হেলাল উদ্দিন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ফাঁদিয়াখালী ইউনিয়নের সাইরাখালী গ্রামের মো. সৈয়দ বাদশার ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি সীমান্ত এলাকা কক্সবাজার থেকে ইয়াবার এই চালানটি নিয়ে এসেছিলেন। বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করে নদীপথ ও মহাসড়ক ধরে দেশের ভেতরে মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।” তিনি আরও জানান, আলামত জব্দের পর হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই পাটুরিয়া ফেরিঘাট। ভৌগোলিক কৌশলের কারণে মাদক পাচারকারী চক্র অনেক সময়ই এই রুটটিকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালিয়ে থাকে। বিশেষ করে কক্সবাজারের মতো সীমান্ত এলাকা থেকে গণপরিবহনে চেপে আসা পাচারকারীরা চেকপোস্টের নজরদারি এড়াতে নিত্যনতুন পথ বদলায়। তবে জেলা পুলিশ স্পষ্ট করেছে, নদীপথ ও মহাসড়কে মাদকের চলাচল পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনতে ফেরিঘাট, লঞ্চ টার্মিনাল এবং প্রবেশমুখগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।


