চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদী দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ টন সিমেন্টসহ চারজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সাথে চোরাচালান ও পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাঠের কার্গো বোট জব্দ করা হয়েছে। রোববার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলের ১৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে।
রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে সামুদ্রিক সীমানা ও নদীপথ ব্যবহার করে একটি অসাধু চোরাচালানকারী চক্র অবৈধভাবে বস্তাভর্তিকৃত বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট প্রসেস করে প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা করছিল। এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পতেঙ্গা কোস্ট গার্ডের একটি দক্ষ টহল দল কর্ণফুলী নদীর ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে। সকাল আটটার দিকে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি সন্দেহভাজন কার্গো বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু বোটটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দ্রুত ধাওয়া করে সেটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং বোটটিতে তল্লাশি চালায়।
তল্লাশি চালিয়ে বোটটির ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা আনুমানিক চার লাখ টাকা বাজারমূল্যের ৪০ টন বাণিজ্যিক সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। বৈধ মালামাল পরিবহনের কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এবং নৌপথে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বোটে থাকা চার পাচারকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে চোরাচালানে ব্যবহৃত পুরো কার্গো বোটটি নিজেদের হেফাজতে নেয় কোস্ট গার্ড।
সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষা ও উপকূলীয় নৌপথে যেকোনো ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। দেশের জাতীয় রাজস্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা, কর ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার রোধ এবং নদীপথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নিয়মিত বিরতিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে কড়া নজরদারি বজায় রাখছে এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদী কেন্দ্রিক চোরাচালান চক্রগুলোর অপতৎপরতা নস্যাৎ করতে সমুদ্র উপকূলে বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিভাগীয় আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোট এবং অভিযুক্ত চার পাচারকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালসহ আটককৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে চোরাচালান দমন আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। সীমান্ত নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে ও অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে কোস্ট গার্ডের এই ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


