মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। তাঁদের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও সকাল পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধ কিংবা ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। ফলে ওই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
বিক্ষোভের মধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রতিহত করতে তাঁদের মহাসড়কে অবস্থান ও মহড়া দিতে দেখা যায়। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন জানিয়েছেন, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইনও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিচ্ছেন। এতে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের আন্দোলনের মূল দাবি ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। এ দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় না হলে এমন পরিস্থিতি শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন, পরিবহন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে।
গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানার ঘনত্বের কারণে এখানকার শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চললেও মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলে। তবে শ্রমিকদের মজুরির দাবি নিয়ে অসন্তোষ পুরোপুরি নিরসন হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


