ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সাথে তার পূর্বের প্রাপ্ত জামিন বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমানের আদালত বুধবার এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটিতে এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে অভিযুক্ত অভিনেত্রী পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় আবেদন করেন। আবেদনে জানানো হয়, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ পরীমনির জামিন বাতিলের জন্য আদালতে জোর আবেদন জানায়। বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করেন এবং পূর্বের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মামলাটির পটভূমি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটিই পরীমনির বিরুদ্ধে প্রথম পরোয়ানা নয়। এর আগে আদালতের বিচার কাজ শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেছিলেন।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুলাই মাসে। সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনি এবং তার দুই সহযোগী—কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম ও ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বাদী নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন গভীর রাতে পরীমনি তার সহযোগীদের নিয়ে সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা অ্যালকোহল সেবন করেন এবং ক্লাবের নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি দামী মদের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে পরীমনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং গালমন্দ করতে থাকেন। বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীকে লক্ষ্য করে সার্ভিং গ্লাস ও সাথে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে। এছাড়া বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালানো এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তদন্ত শেষে পিবিআই কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভাঙচুরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আদালত পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন এবং পরবর্তীতে তারা হাজির হয়ে জামিন পান। অবশেষে আদালতে হাজির না থাকায় পরীমনির জামিন বাতিল করে আবার নতুন করে পরোয়ানা জারি করা হলো।


