বরিশালের উজিরপুরে চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সরকারি সড়কের দুই পাশের বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার সানুহার-ধামুরা সড়কের দুই পাশে থাকা এসব সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দলের এক প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কয়েক দিন ধরে দিন ও রাতের আঁধারে সানুহার থেকে কচুয়া পর্যন্ত বিস্তৃত চার কিলোমিটার এলাকার ছোট-বড় গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর নেতৃত্বে তাঁর লোকজন এসব গাছ কেটে নিয়ে গেছেন। এর আগে অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু লোক সড়কের পাশের গাছগুলোতে চিহ্ন দিয়ে যায় এবং তার পরপরই পর্যায়ক্রমে গাছ কাটা শুরু হয়।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি সরকারি গাছ কাটার জন্য সরাসরি জিয়া আমিন রাঢ়ীকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। পরবর্তীতে দলীয় নেতৃবৃন্দের চাপে পোস্টটি সরিয়ে নিলেও তিনি সাংবাদিকদের কাছে গাছ কাটার বিষয়টি শতভাগ সত্য বলে দাবি করেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে অভিযুক্ত জিয়া আমিন রাঢ়ীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে গাছ কেটে নেওয়ার দৃশ্য নজরে আসার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়। তবে অভিযোগে নির্দিষ্ট কারও নাম না দিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২ নভেম্বর বিকেলে উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে কার্যালয়ে ফিরে যান এবং পরের দিন সকালে পুনরায় পরিদর্শনে গিয়ে সড়কের মাঝে বেশ কয়েকটি গাছ কাটা দেখতে পান। পরে সরেজমিনে তদন্তে পুরো চার কিলোমিটার অংশজুড়ে গাছ সাবাড় করার চিত্র উন্মোচিত হয়।
উজিরপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গাছগুলো সামাজিক বনায়নের কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অনেকে বলছেন, সাবেক এক সংসদ সদস্য স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বহু বছর আগে এসব গাছ রোপণ করেছিলেন। সরকারি জায়গার ওপর বেড়ে ওঠায় এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা জানান, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ বা চুরির ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানাকে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে।


