চিত্রনায়িকা শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি সাভারের বোট ক্লাবে ভাঙচুর, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে করা মামলায় জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি। তবে আদালতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজস্ব গাড়িতে অবস্থান নেন, যেখানে তাকে ঘিরে রেখেছিলেন নিজস্ব কয়েকজন দেহরক্ষী।
এর আগের দিন, ৪ নভেম্বর, পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের পক্ষের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। একই সঙ্গে তাদের অনুপস্থিতির কারণে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৩ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন। পরোয়ানা জারির পরদিনই আইনি প্রক্রিয়া মেনে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নেন এই অভিনেত্রী।
পরীমনিকে আইনি সহায়তা দেওয়া আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) জানান, গতকাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর পরীমনি আইনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনি যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করবেন।
ঘটনার সূচনা ২০২২ সালের ৬ জুলাই, যখন বোট ক্লাবের নির্বাহী সদস্য ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তদন্ত শেষে পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার সহকারী জিমের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে মামলার অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালত পরীমনি ও জিমের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ জুন দিবাগত রাত বারোটার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ওয়াশরুম ব্যবহারের পর ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। রাত সাভার ১টার দিকে ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলমকে নিয়ে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাদের ডেকে নেন এবং টেবিলে বসার অনুরোধ জানান।
এজাহারে দাবি করা হয়, একপর্যায়ে পরীমনি একটি দামি অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। তর্কের একপর্যায়ে পরীমনি ক্ষিপ্ত হয়ে একটি সারভিং গ্লাস এবং নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাত পান। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরীমনি ও তার সঙ্গীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ক্লাবের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
অন্যদিকে এই ঘটনার পরেই পরীমনি সাভার থানায় উল্টো নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষই মুখোমুখি আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে।


