বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকায় রিয়াজ ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের শরীরের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নাওজোড় এলাকার সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের প্রচেষ্টায় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।
গাজীপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আগুন লাগার পরপরই দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিকভাবে তাঁদের কাউকে খুঁজে পাননি।
পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, এ ঘটনায় মোট চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন সুলতান মাহমুদ শিকদারের বরাত দিয়ে তালহা বিন জসিম জানান, দগ্ধ চারজনের মধ্যে আহাদের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর। তাঁর শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি মেডিক্যাল ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের সবার চিকিৎসা চলছে।
গ্যাস সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে এ ধরনের দুর্ঘটনা কর্মীদের নিরাপত্তা এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। সিলিন্ডার পরীক্ষা, গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস লিকেজ হলে আশপাশে আগুনের উৎস থাকায় মুহূর্তেই অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে গাজীপুরের এ ঘটনায় ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণায় গ্যাস লিকেজের বিষয়টি উঠে এলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দগ্ধ ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।


