ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেট এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষে আহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—তৈতুয়া গ্রামের মালু খার ছেলে শহিদুল খা, দক্ষিণ কসবা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে জুয়েল মিয়া, খারপাড়া গ্রামের রাব্বি মিয়া এবং চড়নাল গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে রাশিদুল ইসলাম রাসেল। আহত চারজনকেই উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের একটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদল। নবগঠিত এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যায় নতুন কমিটির পক্ষ থেকে এক আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় পুরো মার্কেট এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নবগঠিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিরাজুল হক ইমু। সেখানে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কসবা-আখাউড়ার বর্তমান সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ও নির্দেশেই তাঁদের শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিলে এই হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, সংঘাতের ঘটনায় চিকিৎসাধীন আহত চারজনই সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে আনীত অভিযোগ ও সংঘর্ষের বিষয়ে সংসদ সদস্য বা তাঁর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে কসবা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম এলাকায় পাঠানো হয়েছিল এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


