জয়পুরহাট-হিলি আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের মর্মান্তিক সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত ও অপর দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসটি আটকে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত কিশোরের নাম আশিফ হোসেন (১৭)। সে জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামের ইমরান হোসেনের ছেলে এবং জয়পুরহাট শহরের ‘জয়পুর সুইটস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিল। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের নাইম (২২) ও জিহাদ (২০)। তারা দুজন বর্তমানে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে জয়পুরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে আসা হিলি অভিমুখী একটি বাস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাশিয়াবাড়ী এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা তিন আরোহীবাহী একটি মোটরসাইকেলকে বাসটি সজোড়ে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা দেওয়ার পরও চালক বাসটি না থামিয়ে মোটরসাইকেল ও তার আরোহীদের প্রায় ৫০ মিটার টেনে নিয়ে যায়। আশপাশের পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার করে বাসটি থামানোর চেষ্টা করলেও চালক গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।
পরবর্তীতে বাসটি কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে গাড়িটির গতি রোধ করে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাসে থাকা সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো গাড়িতে, ফলে ওই ব্যস্ত সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. রুবেল রানা জানান, প্রায় আধা ঘণ্টার নিবিড় চেষ্টায় তারা বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে বাসটির ভেতরের আসন, সিলিং ও অন্যান্য সরঞ্জাম পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় আশিফ, নাইম ও জিহাদকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আশিফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই তরুণকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, নিহত কিশোরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। ঘাতক বাসটিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে চালকের বেপরোয়া গতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



