ঢাকার ধামরাইয়ে তিনটি বসতবাড়ির মূল ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল গ্রামে এই ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা। একই কায়দায় গ্রামে পরপর তিনটি বাড়িতে কাফনের সামগ্রী ফেলে রাখার ঘটনায় কেবল ভুক্তভোগী পরিবারগুলোই নয়, পুরো গ্রামজুড়ে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বুধবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির ফটকের গ্রিলে প্রথম একটি পলিথিনের ব্যাগ ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। সন্দেহ হলে আশপাশের প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হন। পরে ব্যাগটি খুলে তার ভেতরে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি দেখতে পান তারা। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশী ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন এবং সেন্টু মিয়ার বাড়ির প্রধান ফটকেও হুবহু একই ধরনের সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরপর এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোসলেহ উদ্দিন জানান, এর আগে গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে তাঁর বসতঘরে আগুন দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সেই আগুনে ব্যাপক ক্ষতির ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এই মনস্তাত্ত্বিক হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তাঁকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আগের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যেসব প্রতিবেশী তাঁকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছিলেন, কাকতালীয়ভাবে এবার তাঁদের বাড়িগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিবেশী ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন জানান, বুধবার রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়িতে প্রথম ব্যাগটি ঝুলতে দেখে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তখন তাঁর নিজের বাড়ির সামনে সন্দেহজনক কিছু ছিল না। তবে বৃহস্পতিবার সকালে উঠে তিনিও ফটকের সামনে কাফনের কাপড় ও রক্তমাখা মুরগি পড়ে থাকতে দেখেন। পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ পরিবারগুলোকে ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এমন অপকর্ম ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। আরেক ভুক্তভোগী সেন্টু মিয়া গ্রামে পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে তাঁরা ধামরাই থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। খবর পেয়ে ধামরাই থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


