বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে জামালপুর শহরের টিক্কাপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে ওই যুবক চুরির উদ্দেশ্যে টিক্কাপট্টি এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পান। একপর্যায়ে তাঁকে ধাওয়া করেন তাঁরা। ধরা পড়ার আশঙ্কায় ওই যুবক দ্রুত একটি ডাবগাছে উঠে পড়েন। তবে গাছে ওঠার পর নতুন বিপত্তিতে পড়েন তিনি। অনেক সময় পার হলেও নিচে নামার সাহস পাচ্ছিলেন না।
এদিকে গাছের ওপর একজনকে আটকে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবেই তাঁকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি। পরে রাত ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে তাঁকে স্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে আসার অনুরোধ জানান। বিভিন্নভাবে বোঝানোর পাশাপাশি তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এমনকি অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও গাছ থেকে নামতে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তাঁর মধ্যে এতটাই কাজ করছিল যে, কোনো আশ্বাসেই তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না। বরং গাছ আঁকড়ে ধরে ওপরেই অবস্থান করতে থাকেন।
এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধার তৎপরতা। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে বুঝিয়ে শান্ত করতে সক্ষম হন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজেই গাছ থেকে নিচে নেমে আসেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ওই যুবকের ধারণা ছিল, গাছ থেকে নামলেই পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যাবে। মূলত এই ভয়ের কারণেই তিনি দীর্ঘ সময় গাছের ওপর ছিলেন। পরে তাঁকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে আশ্বস্ত করা হলে তিনি নিজেই নিচে নেমে আসেন।
রবিউল ইসলাম আরও জানান, উদ্ধার শেষে পুলিশ ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে তাঁকে সুস্থ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। চুরির অভিযোগে ধাওয়া খেয়ে গাছে আশ্রয় নেওয়া এবং সেখান থেকে নামতে পুলিশের ভয়ে দীর্ঘ সময় অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ধৈর্য ও কৌশলী প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।


