মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করার পর সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত ব্যবসায়ীর নাম মনোরঞ্জন সরকার। ঘটনার সময় তিনি যাত্রাপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে গুরুতর জখম করে সঙ্গে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে পড়ে থাকেন তিনি।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে তার আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় পরে তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে যাত্রাপুর গ্রামে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন সরকারের ওপর হামলা চালিয়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে হামলার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা হয়েছে, নাকি ব্যবসায়ীর কাছে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল হামলাকারীদের উদ্দেশ্য, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ছিনিয়ে নেওয়া ব্যাগে কত পরিমাণ স্বর্ণ, নগদ অর্থ কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিল, তা জানা যায়নি।
ঘটনার পর হামলাকারীদের পরিচয় ও তাদের পালিয়ে যাওয়ার পথ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
একজন ব্যবসায়ীর ওপর এ ধরনের হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ছিনতাই হওয়া মালামালের পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


