চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের এক দিন পর সাহেরখালী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নওশেদ আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদল।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক আবু সাঈদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নওশেদ আলমকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত কোনো অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল বহন করবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়।
একই সঙ্গে যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত এই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কও ছিন্ন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়ন থেকে নওশেদ আলমকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে মিরসরাই থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি এলজি, পাঁচটি রকেট প্যারাসুট ফ্লেয়ার এবং একটি চোরা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরদিনই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে। ফলে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থাও সামনে আসে।
রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো অনেক ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। নওশেদ আলমের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের পর দ্রুত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা যুবদল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপই চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।


