নিহত শাহীন আলম ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের কুঠিরচন্দ্রখানা নাখারজান গ্রামের বাসিন্দা কাশেম আলীর ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অল্প বয়সেই তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সাইকেলে করে গঙ্গারহাট বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল শাহীন। পথে গঙ্গারহাট মোহরটারী হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স একটি অটোরিকশাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি শাহীনের সাইকেলে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কায় সাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হয় শাহীন। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা হতভম্ব হয়ে পড়ে। পরে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে পাঠান।
পরে রংপুরের বেসরকারি ডক্টরস ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় শাহীনকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে সে। দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন শাহীনের সহপাঠীরা। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কিংবা চালকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
শাহীনের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে। সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্বজনেরা। যে ছেলেটি বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেলে চড়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছিল, তার আর ঘরে ফেরা হলো না। সহপাঠীদের কাছেও ঘটনাটি গভীর বেদনার হয়ে উঠেছে। শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার অভিযোগ সামনে আসায় চালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শাহীনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী যানবাহন ও চালককে শনাক্ত করতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হবে এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


