শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে সেতুর মদনগঞ্জগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিঝুম বন্দরের নবীগঞ্জ মোল্লাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মাসুদ মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিঝুম অনার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ছিল নানা পরিকল্পনা। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর জাপানে যাওয়ার কথা ছিল। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি জাপানি ভাষাও শিখছিলেন। বিদেশে গিয়ে নতুনভাবে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এই তরুণ। তবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেওয়া হলো না।
মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন বর্মন জানান, শুক্রবার রাতে নিঝুম ও তাঁর বন্ধু ফারহান মোটরসাইকেলে করে মদনগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে চলছিল। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সেতুর রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে।
এতে মোটরসাইকেলচালক নিঝুম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু ফারহান গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিঝুমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেটি বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। আহত ফারহানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, যা ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নামে পরিচিত, সেখানে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দ্রুতগতিতে চলার সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোই দুর্ঘটনার কারণ। তবে দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সড়কে বেপরোয়া গতি ও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণদের হতাহতের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার করা এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
নিঝুমের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। যে তরুণের সামনে ছিল উচ্চশিক্ষা, বিদেশযাত্রা ও নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, তাঁর জীবন থেমে গেল সেতুর ওপর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।


