রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর এলাকায় অবস্থিত ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ’-এ ফের সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধের জের ধরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো এই তাণ্ডবে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল নিউগিনি প্রপার্টিজের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা সেখানে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারামারিতে লিপ্ত হয়। মারামারির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের প্রথমে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিউগিনি প্রপার্টিজের এই আবাসন প্রকল্পে এটিই প্রথম তাণ্ডব নয়; এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও সেখানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। ওই দিন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে জিনিসপত্র তছনছ ও লুটপাট করা হয়। পরবর্তীতে সালমান মুক্তাদিরের প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। ওই দিনের হামলার অন্যতম প্রধান ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে চিহ্নিত মো. যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তকারীদের দাবি, মিরপুরের দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের একত্রিত করে এই হামলার সমন্বয় করেছিলেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সদস্য যুবরাজ।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার পরিকল্পনা করতে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসেছিলেন ১৩ জন ব্যক্তি। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার জন্য এক কোটি টাকার চুক্তি করেন। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই ইব্রাহিম লোকবল এনে যুবরাজকে হামলার চূড়ান্ত দায়িত্ব দেন। ওই ঘটনায় পরিকল্পনা ও সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আটজন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। হামলায় সরাসরি জড়িত আরও ৯ জনকে পুলিশ শনাক্ত করেছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


