ফরিদপুর শহরের তিনটি পৃথক এলাকায় মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ তিন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০। সংস্থাটির ফরিদপুর ক্যাম্পের (সিপিসি-৩) একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টা থেকে শনিবার ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই ঝটিকা অভিযানগুলো পরিচালনা করে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৯ লিটার বিদেশি মদ ও ৮৩টি বিয়ার ক্যান, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুরের দক্ষিণ টেপাখোলা এলাকার নিতাই কুমার সাহার ছেলে শোভন কুমার সাহা ওরফে কৃষ্ণ (২৯), মামুদপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শোভন হাসান পারভেজ (২৮) এবং অম্বিকাপুরের চরগিয়ান্দিয়া এলাকার মো. সেকেন শেখের ছেলে মো. আশিক শেখ (২৬)। শনিবার দুপুরে এসআরবি-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে পরিচালিত অভিযানের সূচনালগ্নে রাত ২টার দিকে টেপাখোলা কালীবাড়ি মন্দির এলাকায় হানা দেয় এসআরবি-১০। সেখান থেকে ২০ লিটার বিদেশি মদ ও ৪৮টি বিয়ার ক্যানসহ শোভন কুমার সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। প্রথম অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয় মামুদপুর এলাকায়। সেখানে ৩৫টি বিয়ার ক্যানসহ গ্রেপ্তার হন পারভেজ, যার জব্দকৃত বিয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। সর্বশেষ ভোর ৬টার দিকে অম্বিকাপুরের চরগিয়ান্দিয়া এলাকায় তৃতীয় অভিযান চালিয়ে ১৯ লিটার বিদেশি মদসহ আশিক শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়; যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
এসআরবি-১০-এর কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় চক্রের সঙ্গে যুক্ত পেশাদার মাদককারবারি। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিদেশি মদ ও বিয়ার সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন। অভিযানে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তারদের শনিবার বিকেলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আলাদা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এসআরবি-১০-এর কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি তপন সরকার জানান, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে কাজ করছে তাঁদের বাহিনী। অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে এসআরবি-১০-এর এই ধরনের বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


