ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৩ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬১ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার।

রোববার (৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগী ভর্তির এই সংখ্যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৯ জন। তবে নতুন করে রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে অক্টোবর মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৪ জন। সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে রোগী মারা গেছেন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬১ জনে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১২৪ জন। অর্থাৎ মোট নতুন রোগীর উল্লেখযোগ্য অংশই রাজধানী ও আশপাশের এলাকার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ২১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭৪ জন, রংপুরে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়ালেই চলবে না; একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, ছাদের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার রাখা জরুরি।

এদিকে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা কিংবা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ও হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির হার বিবেচনায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না গেলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।