খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই মে ২০২৫, ৩:৪৬ পিএম
কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার রেশ না কাটতেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে শনিবার (৩ মে) পাকিস্তান সফলভাবে একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করে। বিষয়টি উভয় পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, ‘আবদালি’ নামের এই ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণ একটি প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের অংশ ছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। এতে উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম এবং বর্ধিত কৌশলগত ক্ষমতা যুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়।
আইএসপিআরের মতে, উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য ছিল সেনাদের পরিচালনাগত প্রস্তুতি যাচাই করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরীক্ষা করা।
এই সফল উৎক্ষেপণের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও সেনাসদস্যদের অভিনন্দন জানান।
আইএসপিআর এক বিবৃতিতে বলেছে,“আমরা আমাদের কৌশলগত বাহিনীর পরিচালনাগত প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি, যা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম।”
পাকিস্তানের এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন কাশ্মীরের পেহেলগামে ২২ এপ্রিলের এক প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। এ হামলাকে ২০০০ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলা হচ্ছে।
ভারত সরাসরি পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে, যদিও তারা কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি। পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সেনা মোতায়েন ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
খবরওয়ালা/এমবি
মন্তব্য