অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্য সংস্কার। এ সংস্কারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একটি ‘মৌলিক অধিকার’হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সহ নানা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডাক্তারের কাছে কোনো রোগী গেলে কমপক্ষে ১০ মিনিট ধরে দেখতে হবে বলে সুপারিশ করে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন।
সোমবার (৫ মে) বেলা ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এসব সুপরিশ করে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন।
প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—
সাংবিধানিক অধিকার ও নতুন আইন
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।
- এই অধিকার বাস্তবায়নের জন্য ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন’ প্রণয়নের প্রস্তাব, যা নাগরিকদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
- স্বাস্থ্য খাতে ন্যায্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন আইন’, ‘বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস আইন’, ‘জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামো আইন’, ‘বাংলাদেশ সেফ ফুড, ড্রাগ, আইভিডি ও মেডিকেল ডিভাইস আইন’, ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও প্রাপ্তি আইন’, ‘স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও রোগী নিরাপত্তা আইন’সহ মোট ১৫টি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব।
- বিদ্যমান আইন, যেমন—‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন’, ‘নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন’ ইত্যাদি সংশোধনের সুপারিশ।
স্বাস্থ্য কমিশন ও হেলথ সার্ভিস
- স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতি প্রণয়নে সংসদ ও সরকারকে পরামর্শ দিতে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব।
- পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস (বিএইচএস) নামে একটি নতুন সিভিল সার্ভিস গঠনের সুপারিশ।
- স্বাস্থ্য খাতের নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে স্বতন্ত্র ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন (স্বাস্থ্য)’ গঠনের প্রস্তাব।
সেবার মান ও প্রাপ্যতা
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে (ক্ষেত্রবিশেষে ভর্তুকি মূল্যে) প্রদানের সুপারিশ।
- উপজেলা পর্যায়ে সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত (টারশিয়ারি স্তরের) চিকিৎসা চালুর প্রস্তাব।
- প্রতিটি বিভাগীয় সদরে বিশ্বমানের টারশিয়ারি সেবা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সুপারিশ।
- প্রতি রোগীর জন্য গড়ে ১০ মিনিটের পরামর্শ সময় নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- দেশের ২০ শতাংশ অতি দরিদ্র নাগরিকের জন্য সব হাসপাতালে বিনা মূল্যে সেবা প্রদানের সুপারিশ।
- সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলো পর্যায়ক্রমে বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে পরিচালনার প্রস্তাব।
- হাসপাতালে মানোন্নয়নের জন্য কার্যকরী মান উন্নয়ন পর্ষদ ও কন্টিনিউড এডুকেশন পদ্ধতির ব্যবস্থা করার সুপারিশ।
এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ফার্মেসি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এই ফার্মেসিগুলো জাতীয় ফার্মেসি নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত হবে।
খবরওয়ালা/এসআর