ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের কেরানীগঞ্জের তুলশীখালী ব্রিজের পূর্বমাথায় বাস থামিয়ে দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার সময় জনতার হাতে ৫ ডাকাত ধরা পড়েছে।
পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৬মে) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন সরকার ও অন্তর পাল পার্থ পুরাণ ঢাকার তাঁতীবাজারে স্বর্ণ বিক্রি করে নবকলি পরিবহণের একটি বাসে চড়ে নবাবগঞ্জ ফিরছিলেন।
তুলশীখালী ব্রিজের পূর্বমাথায় পৌঁছালে সাদা রংয়ের একটি হায়েস গাড়ি ব্যবহার করে র্যাব পরিচয়ে বাসটির গতিরোধ করা হয়। কিছু লোক বাসে উঠে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন সরকার ও অন্তর পাল পার্থকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় অন্তর পাল পার্থ সুযোগ বুঝে টাকার ব্যাগ নিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। অপরদিকে, ডাকাত দল সুমন সরকারের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। তবে বাসের অন্য যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে ডাকাতদের গাড়ি আটকাতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিয়ে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রোহিতপুরে পরিবহণ শ্রমিকদের সহায়তায় গাড়িটি আটকানো সম্ভব হয়, এবং ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও ৫ ডাকাতকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গির আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার ডাকাত। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে ডাকাতি করত। এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন: মো. রুবেল (বরিশালের গৌরনদী বাটাজোর), আরিফ (সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া শ্যামলীপাড়া), শরিফুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর), উৎপল দেবনাথ (নেত্রকোনার পূর্বধলা), দুলু মিয়া (কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম)
এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে ১টি হায়েস গাড়ি, ২টি ওয়াকি-টকি, র্যাব লেখা দুটি জ্যাকেট, ১টি হ্যান্ডকাফ, ১টি লেজার লাইট, ১টি ইলেকট্রিক শক মেশিন, ১টি লোহার বাটন লাঠি, ৫টি চাকু, ১টি রশি, এবং গাড়ির ২টি ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করে।



