পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চলতি আসরে দারুণ এক জয়ে ফাইনালে পা রাখল লাহোর কালান্দার্স। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৯৫ রানে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল তারা। ব্যাটে-বলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, যিনি মাঝের ওভারে তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে লাহোর কালান্দার্স ৮ উইকেটে তোলে ২০২ রান। উদ্বোধনী জুটিতে ঝড়ো সূচনা এনে দেন মোহাম্মদ নাঈম ও কুশল পেরেরা। নাঈম করেন ৫৭ রান, পেরেরা ৬১। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ছিলেন ব্যর্থ। মাত্র ২ বল খেলে শূন্য রানে আউট হয়ে যান তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারে রিশাদ ২ বলে ৫ রান করে দলের স্কোর দুইশ পার করতে সহায়তা করেন।
২০৩ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। পাওয়ার প্লেতেই ৩৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। দুর্দান্ত বল করেন সালমান মির্জা, যিনি ভেঙে দেন টপ অর্ডার। এরপর সপ্তম ওভারে বল হাতে আসেন সাকিব আল হাসান, তবে ৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।
লেগ স্পিনে ঝলক দেখান রিশাদ হোসেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারে বিপজ্জনক সালমান আগাকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর ১২তম ওভারে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন এই তরুণ। ওই ওভারেই পরপর ফিরিয়ে দেন অধিনায়ক শাদাব খান (২৬) ও জেমস নিশামকে। এই দুই উইকেটে ভেঙে পড়ে ইসলামাবাদের শেষ আশার ব্যাটাররাও।
৯৫ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইউনাইটেড। নাসিম শাহ ও টাইমাল মিলসকে ফিরিয়ে জয়কে একরকম সুনিশ্চিত করে দেন লাহোরের বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ১৬তম ওভারের প্রথম বলেই হায়দার আলীকে আউট করে ম্যাচের ইতি টানেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।
লাহোরের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন, শাহীন আফ্রিদি ও সালমান মির্জা। তবে ৩ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে রিশাদ ছিলেন খানিকটা খরুচে। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান ৩ ওভারে ২৭ রান দিলেও পাননি কোনো উইকেট।
এই জয়ে ফাইনালে উঠল গতবারের চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স। ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে করাচি কিংস বনাম মুলতান সুলতানসের মধ্যকার সেমিফাইনালের বিজয়ীর।
খবরওয়ালা/এমএজেড



