এসএসসিতে আশানুরূপ ফল না করায় একদিনেই ১২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, ১১ জনই ছা্ত্রী

এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না করায় সারাদেশে একদিনেই আত্মহত্যা করেছে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী, এছাড়াও ৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়া যায়। নিহত শিক্ষার্থীদের তালিকায় রয়েছে ছাত্রী ও ছাত্র উভয়ই, যাদের বেশিরভাগই ফেল বা কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার কারণে মানসিক চাপে আত্মঘাতী হন।

আত্মহত্যার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন: 

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফেল করায় ফারজানা সুলতানা (১৬) নামের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের মেয়ে এবং গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। (খবরওয়ালা)

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে অকৃতকার্য হয়ে প্রভা আক্তার (১৬) নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। তিনি ভরাসার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। (বাংলাদেশ প্রতিদিন)

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ফেল করায় শ্রাবন্তী রানী সরকার নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। তিনি দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। (জনকণ্ঠ)

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় ফেল করায় নাগমণি (১৭) নামের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি শেরে বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। (বাংলাদেশ প্রতিদিন)

কক্সবাজার সদরে প্রিয়তম রুদ্র (১৭) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি খুরুশকূল উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। (বাংলাদেশ প্রতিদিন)

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিতু আকতার নামের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বালিয়াডাঙ্গী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। (প্রথম আলো)

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে রিতা মণি (১৬) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি দাউদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রী ছিলেন। (প্রথম আলো)

বরিশালের হিজলায় ফেল করায় অর্পিতা মাতুব্বর (১৬) নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। (জনকণ্ঠ)

বরিশালের মৌশেদা আক্তার ইমা (১৬) আত্মহত্যা করেন। তিনি খাদেম হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। (জনকণ্ঠ)

বরিশালের বাবুগঞ্জে ফেল করায় মীম ইসলাম (১৬) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেন। তিনি কাজল খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। (জনকণ্ঠ)

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ফেল করায় লাবণ্য আক্তার (১৬) আত্মহত্যা করেন। তিনি পিয়ারী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। (বাংলাদেশ প্রতিদিন)

বগুড়ার শেরপুরে কাঙ্ক্ষিত ফল (এ+) না পেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৭) আত্মহত্যা করেন। তিনি পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী ছিলেন। (প্রথম আলো)

আত্মহত্যার চেষ্টাকারী শিক্ষার্থীরা:

কুষ্টিয়ার খোকসায় ফেল করায় রাব্বি বিশ্বাস (১৭) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। (খবরওয়ালা)

বরিশালের বাকেরগঞ্জে তনি আক্তার (১৭) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। (জনকণ্ঠ)

বরিশালের নিয়ামতি চামটা গ্রামে মুরছানা আক্তার (১৭) ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। (জনকণ্ঠ)

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ফেল করায় জুয়েল ইসলাম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি এস এস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। (ঢাকা মেইল)

একই উপজেলায় রিপা খাতুন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। (ঢাকা মেইল)

নওদাবাস কালীমোহন তফশিল উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী অর্পিতা রায়, নম্বর কম পাওয়ায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি লালমনিরহাটের গেন্দুকুরি এলাকার বাসিন্দা। (ঢাকা মেইল)

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক মানসিকতা এবং পারিবারিক চাপ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সহমর্মিতা ভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

খবরওয়ালা/এমএজেড

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।